বাচ্চাদের সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর উপর প্রায়শই চাপ প্রয়োগ করে থাকে বিভিন্ন উন্নত দেশগুলো। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া আইন পাশ করে ১৬ বছরের নিচে বাচ্চাদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। Roblox এর মত গেমিং প্রতিষ্ঠান ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম চালু করেছে এবং একই সাথে Trusted Connections-এর মত ফিচার রেখেছে।
পৃথিবীজুড়েই তরুণ ও কিশোর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে টিকটক তুমুল জনপ্রিয়। একই ধরনের চাপ এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ওপরেও রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি টিকটক ইউরোপের মার্কেটের তাদের নতুন আন্ডার এইজড ব্যবহারকারীদের সনাক্ত করার জন্য ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
টিকটকের নতুন এই ভেরিফিকেশন সিস্টেমে ১৩ বছরের নিচে একজন ব্যবহারকারীর প্রোফাইলের তথ্য, পাবলিশড করা ভিডিও, এবং অ্যাপটিতে ব্যবহারকারীর আচরণ এই সিস্টেম অ্যানালাইজ করবে। টিকটকের পলিসি অনুযায়ী, ১৩ বছরের নিচে কেউ এই অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে সাইন আপ বা জয়েন করতে পারবেন না। টিকটকের ভেরিফিকেশন সিস্টেম যখন কোন একটি একাউন্টকে আন্ডার এইডজ বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক কেউ ব্যবহার করছেন বলে সনাক্ত করবেন তখন সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিল্টার করবে এবং একজন স্পেশাল মডারেটর সেটি রিভিউ করবে। যদিও এই সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একাউন্ট ব্যান করবে না।
টিকটক কর্তৃপক্ষ সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছে – ইউরোপ মার্কেটে খুব শীঘ্রই এটি শুরু হবে। এবং এই ভেরিফিকেশন সিস্টেমটি ইউরোপিয়ান নীতিমালা অনুযায়ী ডিজাইন করা হয়েছে। যদিও গত বছরখানিক যাবত এই সিস্টেমটি ব্রিটেনের মার্কেটে চালু রয়েছে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রেশার দিচ্ছে চাইল্ড সেফটি ইস্যু নিয়ে। একইসাথে প্ল্যাটফর্মগুলোতে যাতে নূন্যতম একটি বয়সের নিচে কেউ যাতে সাইনআপ বা জয়েন করতে না পারে সে ব্যাপারে স্পষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করার ব্যাপারে।
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট ভাবছে অস্ট্রেলিয়ারমত আইন তৈরি করে ১৫ বছরের নিচে বাচ্চাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার।
তবে ম্যাশএবল সম্প্রতি জানিয়েছে অনলাইন প্লাটর্ফমগুলো এইজড ভেরিফিকেশন, ফেস রিগকনিশনের মত ফিচার চালু করলেও প্রযুক্তিগত নানা রকম জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। উদাহরণস্বরূপ গেমিং প্রতিষ্ঠান Roblox আন্ডার এইজড তরুণ/তরুণীদের জন্য ফেস রিগকনিশন চালু করলেও ব্যবহারকারীর এনিমেটেড এভাটার বা ছবির মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যামে মাথায় আলগা চুল বা মুখে দাড়ি যুক্ত করে তাদের সিস্টেমগুলো বোকা বানাচ্ছে।
টিকটকের এইজড ভেরিফিকেশন সিস্টেমটি ব্যাপক আকারে কাজ শুরু করলে বোঝা যাবে এই সিস্টেমটি কেমন কাজ করবে।