আমাদের রিভিউ ভিডিওটি দেখে আসতে পারেন।
আমাদের স্টুডিওতে রিভিউয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিলো অ্যাপল ওয়াচ ১১ সিরিজের একটি কপি ওয়াচ। To be specific – HK11 Pro Max. And yes it’s a apple copy. দেখতে অনেকটাই অ্যাপেল ওয়াচের মত। UI-ও অ্যাপল ওয়াচের মতই। আর আছে অসংখ্য ফিচার।
যাই হোক এই প্রোডাক্টটি আমাদের কাছে পাঠিয়েছে টেকস্টুডিও। চলুন দেখা যাক কি কি থাকছে এরাউন্ড ৩ হাজার টাকার এই ওয়াচটিতে।
প্রথমেই শুরু করি প্যাকেজিং এবং আউটলুক দিয়ে।
হোয়াইট কালারের খুবই মিনিমাল প্যাকেজিং। বাট বক্সটার কোয়ালিটি খুবই শক্তপোক্ত আরকি। উপরের কভারটা উঠালেই ওয়াচটা, এছাড়া ইনবক্স কনটেন্ট হিসেবে রয়েছে দুইটা স্ট্র্যাপ, একটা ওয়্যারলেস চার্জার, এবং মেনুয়্যাল। দ্যাটস ইট।
ব্ল্যাক এবং হোয়াইট দুইটা কালার ভ্যারিয়্যান্টে পাওয়া যায়। আমাদের হাতে আছে হোয়াইট কালারেরটি ।
আরও বেশি ডিপডাইভ করার আগে টেকস্টুডিও সম্পর্কে একটু বলে রাখি:
এই প্রোডাক্টটি আমাদের কাছে পাঠিয়েছে টেকস্টুডিও।
HK11 Pro Max – এই ওয়াচটি আপনারা ৩ হাজার টাকায় পাবেন টেকস্টুডিওতে। এই প্রোডাক্টটি অর্ডার করলে শুধুমাত্র গ্যাজেট ক্রিটিকের ভিউয়ারদের জন্য থাকছে সারাদেশে ডেলিভারি চার্জ ফ্রির সুবিধা।
এছাড়া টেকস্টুডিওতে আপনারা পাবেন লেটেস্ট গ্যাজেট, মোবাইল এবং টেক এক্সিসোরিজসহ আরও অনেক কিছু।
যাইহোক, এই ওয়াচটি মোবাইলে কানেক্ট করতে লাগবে WareFit Pro অ্যাপটি। অ্যান্ড্রেয়েড এবং আইফোন উভয় প্ল্যাটফর্মের জন্য রয়েছে অ্যাপ।
অ্যাপটি কানেক্ট করার সময় বরাবরের মতই ডিটেইল না পড়েই Agree বাটনে চেপে ডিভাইসে থেকে পারমিশন দিতে হবে এবং অব্যশই স্মার্টফোনের ব্লুটুথ অন রাখতে হবে।
বলে রাখা ভালো, মোবাইলের ব্যাটারি সেটিংস যদি অপ্টিমাইজড মুডে থাকে বা পাওয়ার সেভিং মুডে থাকে তাহলে ফোনের ব্যাটারি সেটিংস থেকে এই অ্যাপটিকে ফুল একসেস দিতে হবে।
শুরুর দিকে আমাদের হ্যান্ডসেটটিতে অ্যাপটি কানেক্ট হচ্ছিলো না এই সমস্যার জন্য। একটি রিয়েল লাইফ হ্যাক শেয়ার করলাম।
যাইহোক এরপর অ্যাপটিতে লগইন করে ডিভাইস অপশন থেকে আপনার ওয়াচটি কানেক্ট করে নিবেন। অথবা QR কোড স্ক্যান করেও কানেক্ট করতে পারবেন।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি নিয়ে যদি বলি – এই ঘরির একটা যদি মোস্ট টকিং পার্ট থাকে সেটি হচ্ছে এর ডিসপ্লে। ২.০২ ইঞ্চির এমোলেড ডিসপ্লে রয়েছে এই ঘড়িতে।
যেটি খুবই ভাইব্রেন্ট কালার প্রোডিউস করে। ডিসপ্লেতে কোন ল্যাগিং বা জার্কিং ফিলিংস নেই। ডে লাইটে যথেষ্ট ব্রাইট। যদিও ডিসপ্লের ব্যাপারে এরচেয়ে খুব বেশি প্রোপার ইনফো কালেক্ট করা সম্ভব হয়নি। চাইনিজ প্রোডাক্ট বলে কথা।
যাইহোক, ঘড়িটির আউটার শেল লুকস লাইক মেইড অফ মেটাল অ্যালয়। লুকস ভেরি সলিড এন্ড অ্যালিগেন্ট। ডান পাশে থাকছে ঘড়িটির ডায়াল বা ক্রাউন। ডায়ালের মাধ্যমে খুব স্মুথলি এর UI Navigation করা যাবে। এর ঠিক নিচে আরেকটি বাটন। এবং বামপাশে রয়েছে স্পিকার গ্রিল।
ব্যাক সাইডে রয়েছে সেন্সর এবং এর ওয়্যারলেস চার্জিং সিস্টেম। বলে রাখা ভালো এই ওয়াচটা অ্যাপল ওয়াচের স্ট্র্যাপের সাথে কম্পাটিবল। সো, অ্যাপল ওয়াচের স্ট্র্যাপগুলোও চাইলে ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া সিমিলার আফটার মার্কেটে স্ট্র্যাপগুলোও ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়া স্ট্র্যাপের ম্যাগনেটিক ম্যাকানিজমগুলো খুবই ভালো। বাটনগুলো প্রেস করা ছাড়া খুলে আসার কোন উপায় নেই। যদিও অ্যাপল ওয়াচের চেয়ে এই ওয়াচের ডিসপ্লেটা সাইজে সামান্য একটু ছোট তাই অ্যাপল ওয়াচের ডিসপ্লে প্রোটেক্টর এটাতে ব্যবহার করা যাবে না।
যদিও ঘড়ির আইপি রেটিংয়ের ব্যাপারে এক্সাট কোন ইনফরমেশন আমরা পাই নি। তবে ঘড়িতে বিল্ড ইন ওয়াটার ড্রেনের ফিচার রয়েছে এবং এটি যথেস্ট ভাইব্রেট করে।
সো বলা যায়, একটা মিনিমাম ওয়াটার, সোয়েট এবং ডাস্ট প্রোটেকশন এটাতে রয়েছে।
একটা স্মার্টওয়াচ শুধু ডিজাইন এবং এর UI এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। এরপরই চলে আসে আরে ফিচারের বিষয়। আর এই বিষয়ে HK11 Pro Max-এর আছে হ্যান্ডস ফুল অফ ফিচার।
শুরুতই হেলথ মনিটরিং – হার্ট রেট এবং ব্লাড প্রেশার আজকাল একটা কমন ফিচার স্মার্টওয়াচ গুলোতে। তবে অবশ্যই এ ডাটা গুলোকে আপনি একটা স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে নিতে পারবেন না। সহজ করে বললে ভরসা করা উচিত না। কোম্পানির দেওয়ার দরকার তাই দিয়েছে।
অবশ্য স্লিপ ডাটাটা আমাদের কাছে সেটিসফাইং মনে হয়েছে।
একই সাথে এই ঘড়িটি স্টেপ, ক্যালরি এবং ডিসটেন্স কাউন্ট করে। হুইচ ইজ অ্যা টিপিক্যাল ফিচার। অলদো আমাদের কাছে এই ফিচারটিও মোটামুটি অ্যাকুরেট মনে হয়েছে। ডেইলি লাইফে এটি একটি প্রোয়োজনীয় ফিচার।
অনেকেরই কাজে লাগতে পারে।
বাট থার্ড পার্টি অ্যাপে সিঙ্ক করার কোন অপশন নেই। আমার পাসোনাললি পছন্দ স্ট্রাভা আউটডোর অ্যাকটিভি ট্র্যাক করার জন্য।
এছাড়া রয়েছে সেকেন্ডারি রিমাইন্ডডার – লংটাইম বসে থাকলে বা ইনঅ্যাকটিভ থাকলে ওয়াচটি এই নোটিফিকেশনটি শো করে থাকে। স্পেশালি ঘড়িটি টেবিল বা ডেস্কে থাকলে এই নোটিফিকেশনটি চোখে পড়ে।
এছাড়া ওয়্যারফিট প্রো অ্যাপটি ডেইলি অ্যাকটিভিটির একটি চার্ট রিপোর্ট দেখায়। যেখান থেকে সারাদিনের ফিটনেস আপডেটটা সহজে চেক করা যায়।
পাশাপাশি এই ওয়াচে রয়েছে মাল্টি স্পোর্টসমুড। ওয়াকিং, রানিং, ইনডোর এবং আউটডোর সাইক্লিং,ইয়োগা, কায়িাকিংয়ের মত অ্যাকটিভি ট্র্যাক করা যাবে।
কমিউনেকশন এবং মাল্টিমিডিয়ার কথা যদি বলি। ওয়াচ থেকেই কল করা যাবে এবং রিসিভও করা যাবে। রয়েছে বিল্ড ইন মাইক এবং স্পিকার। ইনডোরে ডিসেন্ট একটা পারফরমেন্স পাওয়া যাবে। এবং আউটডোরেও যদি লেস নেয়সি এরিয়া হয় তাহলেও কাজ চলে যাবে।
এছাড়া, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইমেইল ও ম্যাসেজসহ আরও নানারকম নোটিফিকেশন দেখা, ম্যানেজ করা ও কাস্টমাইজের অপশন রয়েছে এই ওয়াচটিতে।
এই ওয়াচের ওয়ান অফ দা বেস্ট পার্ট – বলা যেতে পারে এর লোকাল স্টোরেজ সাপোর্ট। মোবাইলের সাথে ব্লুটুথ কানেকটিভির পাশপাশি এই ওয়াচে রয়েছে বিল্ড ইন মেমোরি বা লোকাল স্টোরেজ সাপোর্ট। স্টোরেজ সম্পর্কে এক্সাট ডাটা না পেলেও মোটামুটি কিছু সংখ্যাক গান এবং ছবি মোবাইল থেকে আপনি ওয়াচে সেভ করে রাখতে পারবেন।
এছাড়া আরেকটি অসাধারণ ফিচার হলো- আপনি সরাসরি আপনার TWS কে পেয়ার করতে পারবেন স্মার্টওয়াচের সাথে।
এবং এই ওয়াচটিতে রয়েছে অডিও রেকডিংয়ের সুবিধাও। থ্যাকস টু ইটস বিল্ড ইন মাইক।
এছাড়া স্পিকারগুলো ইনডোর এনভয়ারমেন্টের জন্য লাউড এনাফ মনে হয়েছে আমাদের কাছে। আউটডোরে এভারেজ বলা চলে। বাট খুব বেশি নয়েজি এরিয়া হলে বিলো এভারেজ বলা যায়।
HK11 Pro Max এর ফিচারের ভান্ডারকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে এর ডাইনামিক আইল্যান্ড লাইক ফিচারের মাধ্যমে। যেটা এর নোটিফিকেশনকে আরও ইন্টারঅ্যাকটিভ করে তোলে এর ইউজারের কাছে। এ ছাড়া আছে বিল্ড ইন AI অ্যাসিসট্যান্ট। এর সাহায্যে আপনি ট্রান্সলেট করা, অথবা আপনার ডেইলি টু ডু লিস্ট ম্যানটেন করা, স্কেজিউল করা, রিমাইন্ডার সেট করার মত টুকটাক প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন।
এছাড়া আপনি চাইলে রিমোট শাটার হিসেবেও ওয়াচটিকে ব্যবহার করতে পারবেন।
ফিচার কিন্তু এখনও শেষ না। আরও আছে, ইবুক পড়া, গেইমস খেলা, ক্যালকুলেটর, কম্পাস, ক্যালেন্ডার এবং QR কোড পেমেন্টেরও বিল্ড ইন অপশন রয়েছে এই HK11 Pro Max ওয়াচটিতে।
ওয়্যারফিট প্রো অ্যাপটি আপনি ওয়াচের সাথে কানেক্ট করার পর, অসংখ্য ওয়াচ ফেস পেয়ে যাবেন। পাসোনাল ফটো আপলোড করতে পারবেন। এছাড়া অন্যান্য অপশনগুলোও কাস্টমাইজড করতে পারবেন। ইভেন, ওয়াচের বাটনগুলোর অপশনও কাস্টমাইজড করা পসিবল।
এই বাজেটে এমন কাস্টমাইজেশনের অপশন পাওয়া অসাধারণ ব্যাপার। বাট অ্যাপটির সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো এটি খুব ঘন ঘন পাপ আপ এডস এবং ফুল স্ক্রিণ এডসও ফোর্সফুললি দেখায়। এটি একটি কনস বলাই বাহুল্য।
এছাড়াও আরও অনেক অনেক ফিচার রয়েছে যেগুলো আপনার এক্সপ্লোর করে দেখতে পারেন। সবগুলো এই ছোট ভিডিওতো দেখানো সম্ভব না।
এত এত ফিচার নিয়ে এই স্মার্টওয়াচটি কতক্ষণ ব্যাকাপ দিতে পারে এটি এখন একটি প্রশ্ন। যদি মোবাইলের সাথে ফুল টাইম ওয়াচটি কানেক্টেড রাখেন বা দিনের ম্যাক্সিমাম টাইম কানেক্টেড রাখেন তাহলে এরাউন্ড ৫/৭ দিনের মত ইজিলি ব্যাকাপ পাওয়া যাবে। এছাড়া যদি আইডিয়ালি ইউজ করে থাকে ১০/১২ দিন প্লাস ব্যাকাপ পাওয়া সম্ভব ওয়াচটি থেকে।
যাইহোক, এক নজরে দেখে নেই প্রোস এবং কনসগুলো।
CONS:
প্রথমেই বলে রাখি এরকম চাইনিজ প্রোডাক্টের সলিড ইনফরমেশন বের করা খুবই কষ্টসাধ্য। ওয়ারটার রেজিন্সেট সম্পর্কে তেমন তথ্য পাই নি। ইন্টারনেট ঘেটে যতটুকু বের করা পসিবল হয়েছে। আর আমাদের হাতে যেহেতু এসেছে তাই কিছু বলাই লাগে।
– IP67 ওয়াটার রেজিটেন্স ক্লেইম করেছে কেউ কেউ। অলদো এটা আরেকটু বেটার হতে পারতো।
– বিল্ড ইন জিপিএস নেই। রানিং, সাইক্লিং এবং ওয়াকিংয়েরমত অ্যাকটিভিটি করতে থার্ডপার্টি অ্যাপের সাহায্য প্রয়োজন হবে। এবং ওয়াচ ডাটাও সিংক করার অপশন নেই।
– ওয়াচ থাকা হেলথ ডাটাগুলো অবশ্যই মেডিকেল রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। যেমন, ব্লাড প্রেসার, অক্সিমিটার এরমত ডাটাগুলো।
– যদিও এর লোকাল স্টোরেজ অপশন আছে অ্যাপসের মাধ্যমে অসংখ্য কাস্টমাইজেশনের অপশন থাকলেও এর বাইরে থেকে কোন অ্যাপস ব্যবহার করা যাবে না। এটি একটি ক্লোজড ইকোসিসে্েটরম মধ্যে লকড।
– এবং ফাইনাললি – এর আগে বলেছি। অ্যাপসের মধ্যে অসংখ্য পপ আপ অ্যাডস। হুইচ ইজ সো অ্যানোইং।
PROS:
এবার কিছু ভালো কথা।
– ২.০২ ইঞ্চি অমোলেড স্ক্রিন উিইথ অলওয়েজ অন ফিচার।
– ব্লুটুথ কল।
– ডিসেন্ট ব্যটারি লাইফ।
– ডিসেন্ট ইন্টারনাল স্টোরেজ। এরাউন্ড ১জি.বি.
– এআই ভয়েস এসিসট্যান্ট + ডাইনামিক আইল্যান্ড
– মাল্টি স্পোর্টস ট্র্যাকিং
– হ্যান্ডস অন কাস্টমাইজেশন অপশন
– TWS কম্পাটিবিলিটি
– অ্যাপল ওয়াচ স্ট্যাপ কম্পাটিবিলিটি
সো এই ছিলো আমাদের আজকের ভিডিও। আপনার যদি এই প্রোডাক্টটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অর্ডার করতে পারেন টেকস্টুডিও থেকে। ডেসক্রিপশনে দেয়া থাকবে লিংক।
আর এই ভিডিওটি বা প্রোডাক্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। কথা হবে নেক্সট ভিডিওতে।