এক সময়ের হালের ক্রেজ TWS এখন হয়ে গেছে নেসেসিটি, স্টাইল এবং ফ্যাশনের কম্বো। আর মার্কেটে এখন এন্ট্রিলেভেল টু ফ্লাগশিপ – ব্র্যান্ড টু নন ব্র্যান্ড – সবধরনের TWS পাওয়া যায়। আজকে আমাদের কাছে টেকস্টুডিও পাঠিয়েছে বাজেট সেগমেন্ট বর্তমান মার্কেটের ওয়ান অফ দ্যা মোস্ট হাইপড একটি প্রোডাক্ট। এবং এটি একটি ইউএস বেসড কোম্পানি। যদিও মেইড ইন চায়না। যাই হোক – আজকে স্টার অফ দা শো হচ্ছে Monster Aura Fit DO2. মাত্র ১৩৯০ টাকার এই TWSটি কি কি ফিচারের কারণে কেন এতো পপুলার তা জানবো এই আর্টিকেলে।
ডিপডাইভ করার আগে একটু খুচরা আলাপ –
আউটলুক নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। পারসোনাললি এর কালার থিমটা আমার ভালো লেগেছে। ব্ল্যাক হোয়াইট এবং রেডের একটা ব্যালেন্স আছে এর ডিজাইনে। জেনারেললি প্রথম দেখায় একটা প্রিমিয়াম ভাইব দেয়।
তো যাই হোক, এবার ইনবক্স কনটেন্টগুলো একটু দেখে নিই। প্যাকেজিংটা বলতে হবে সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস। সাথে একটু ইউনিক ভাইবও আছে। উপরের পেপার ফ্ল্যাপটা উঠালেই আমদের মেইন কনটেন্ট TWSটি। এর নিচে রয়েছে ইউজার মেনুয়াল, চার্জিং ক্যাবল এবং ২ জোড়া ইয়ার টিপস।
এই TWS-টি দুইটি কালার ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়া। ব্ল্যাক এবং হোয়াইট। আমাদের হাতে রয়েছে ব্ল্যাক ভ্যারিয়েন্টেরটি।
আরেকটু ডিপ ড্রাইভ করার আগে বলে রাখি
এই প্রোডাক্টটি আমাদের কাছে পাঠিয়েছে টেকস্টুডিও। ৬ মাসের অফিশিয়াল ওয়ারেন্টিসহ মাত্র ১৩৯০ টাকায় এই প্রোডাক্টটি পাবেন টেকস্টুডিওতে। সাথে থাকছে সারাদেশে হোম ডেলিভারির সুবিধা। এছাড়া টেকস্টুডিওতে আপনারা পাবেন লেটেস্ট গ্যাজেট, মোবাইল এবং টেক এক্সিসোরিজ।
এই প্রোডাক্টটি কিনতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
TWSটির ডিজাইন এবং ফাস্ট ইম্প্রেশনের কথা যদি বলি – ম্যাট ফিনিশিং করা হয়েছে এর বডিতে। সো সহজেই ফিঙ্গার প্রিন্ট পরা বা চ্যাটচেটে ভাবটা থাকবে না। এটা একটা পজেটিভ দিক। আর বড়ির দুই পাশটা একটু চ্যাপটা করা হয়েছে এবং রাবার প্যাড রয়েছে – চাইলে এটাকে ভার্টিকেল্যালি দাড় করিয়ে রাখা যাবে। এটা পার্সোনাল চয়েজ। কারও ভালো লাগতেও পারে আবার নাও লাগতে পারে। নিচের দিকে রয়েছে টাইপ সি চার্জিং পোর্ট।
আর হিঞ্জের কথা যদি বলি – wabling নাই বলেলেই চলে। যথেস্ট শক্ত পোক্ত মনে হয়েছে।
এবার এর ফিচারগুলোর দিকে একটু নিয়ে কথা বলা যাক – শুরুতেই বলতে হবে এর ব্লুটুথ ভার্সনের কথা। একদম লেটেস্ট ব্লুটুথ ৬.০ রয়েছে এই TWS-টিতে। যার ফলে, আল্ট্রা লো লেটেন্সি, হাই রেজুলেশেন অডিও’র মতো সাপোর্ট পাওয়া যাবে। একইসাথে ব্লুটুথ ৬.০ LC3 প্লাস কোডেকও সাপোর্ট করে।
এছাড়ার টিপিকাল ফিচারগুলো তো থাকছেই। যেমন, ১০ মিটার ট্রান্সমিশন ডিসটেন্স, ১১৫ ডিসেবলের সেন্সিটিভিটি, ইত্যাদি ইত্যাদি।
ব্যাটারি সেগমেন্টের কথা যদি বলি – এর চার্জিং কেসটিতে রয়েছে ৩.৭ ভোল্টের ৩০০ মিলি অ্যাম্পেয়ারের ব্যাটারি। আর বাডসগুলোতে রয়েছে ৩৫ মিলিঅ্যাম্পেয়ারের ব্যাটারি। চার্জিং কেসটি রিচার্জ হতে সময় নেয় দেড় ঘন্টার মত।
বাডসগুলো ব্যাকআপ দেয় প্রায় চার ঘন্টারমত । চার্জিং কেসের টাইমসহ ব্যাকাপ টাইম প্রায় ২৪ ঘন্টারমত ক্লেইম করেছে কোম্পানি।
বাট আমাদের টেস্টে এর একচুয়াল ক্যাপাসিটি এরাউন্ড ২২/২৩ ঘন্টারমত আমরা পেয়েছি। একচুয়ালি এই টাইমটা আবার অনেক কিছুর ওপর ডিপেন্ড করে। যেমন কত পার্সেন্ট ভলিউমে ব্যবহার করছেন। ANC/ENC বা গেমিং মুড কি রকম ব্যবহার করছেন তার উপরও ডিপেন্ড করে।
এবার একটু আসল দিকে মনোযোগ দেওয়া যাক।
অডিও।
১৩ মিলি মিটারের ড্রাইভার ব্যবহার করা হয়েছে এই TWSটিতে। ব্যালেন্সড একটা আউটপুট পাওয়া যায় এর থেকে। ওভার অল ডিসেন্ট একটা বেসের আউটপুটপাওয়া যায়। ট্রেবলের আধিক্য তেমন নাই; অনেকটাই ব্যালেন্সড। বাট সাউন্ড লাউড এনাফ বলতেই হবে। অবশ্যেই বাজেটের ব্যাপারটাও মাথায় রাখতে হবে। বাজেট হিসেবে ডিসেন্ট বলা যায়।
একইসাথে যেহেতু ANC রয়েছে, ENC রয়েছে এবং লো ল্যাটেন্সি গেমিং মুডও রয়েছে যা এই বাজেটে সত্যিই অসাধারণ। যারা খুব হেভি ANC পছন্দ করেন এটা তাদের জন্য। আমাদের কাছে যথেস্ট ভালোই মনে হয়েছে। খুবই ডিসেন্ট বলা যায়। আর গেমার ভাইদের বলবো যদিও গেমিং মুড আছে বাট দুনিয়াতে আপনাদের জন্য এখনো কোনো TWS আসে নি। তবে টুকটাক গেমিংতো করাই যাবে।
কলিং নিয়ে যদি কথা বলি – চারটা বিল্ডইন মাইক রয়েছে নয়েস ক্যান্সেলেসের জন্য। ডিসেন্ট একটা কলিং এক্সেপেরিয়েন্স পাওয়া যাবে এর থেকে। কিছু অডিও স্যাম্পল দিয়ে দিচ্ছি আমরা –
এবার আপনারা ডিসিশন নিতে পারবেন সহজেই।
এছাড়া বাডসগুলোর মধ্যে রয়েছে মাল্টি ফাংশন বাটন বা MFB যার ফলে খুব সহজেই ভলিউম কমানো বাড়ানো, ভয়েস এসিসট্যান্ট চালু করা, পজ/প্লে করাসহ সবধরনের কন্ট্রোল করতে পারবেন। আপনাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেটিংসগুলো মেনশন করে দিচ্ছি।
– ডান বা বাম যে কোন পাশে ৫বার ট্যাপ করলে ভয়েস এসিসট্যান্ট চালু হবে।
– ডান পাশে সিঙ্গেল ট্যাপে ভলিউম বাড়ানো যাবে এবং বাম পাশে করলে কমানো যাবে।
– ডান বা বাম যে কোন পাশে ডাবল ট্যাপ করলে পজ বা প্লে করা যাবে।
– এছাড়া ডান পাশে তিনবার ট্যাপ করলে নেক্সট এবং বাম পাশে তিনবার ট্যাপ করলে প্রিভিয়াস মিডিয়া প্লে হবে।
– কল রিসিভ করার জন্য যে কোন পাশে ডাবল ট্যাপ করতে হবে।
– কল রিজেক্ট করতে হলে যে কোন পাশে ২ সেকেন্ড ধরে রাখতে হবে।
– এবং কল হ্যাঙ্গ আপ বা কথা বলা শেষে ফোন কাটতে যে কোন পাশে ডাবল ক্লিক করতে হবে।
– ENC মুড অন করার জন্য যে কোন পাশে ৩ সেকেন্ড ট্যাপ করে ধরে রাখতে হবে।
– দ্বিতীয় বার ৩ সেকেন্ড ধরে রাখলে ANC মুড অন হবে।
– এবং তৃতীয় বার ট্যাপ করে ধরে রাখলে ANC অফ হবে।
– গেমিং মুড এবং মিউজিক মুডে সুইচ করার জন্য যে কোন পাশে ৪বার ট্যাপ করতে হবে।
তো এই ছিলো ওভারঅল ফিচার, সেটিংস ও ভালো লাগার কথা। টেস্টিংয়ের পর আমারদের কাছে যেটা মনে হয়েছে এই রেঞ্জে ওভারঅল গুড।
বাট এটার সাথে কোন অ্যাপ সাপোর্ট নেই এবং কোন IPX রেটিং নেই। যদিও কাছাকাছি বাজেটে অ্যাপ সাপোর্টেড TWS বলার মত দুয়েকটা আছে। বাট আমারমত IPX রেটিং নিয়ে মাথাব্যথা থাকলে বাজেট অবশ্যই ১৬০০ আশেপাশে থাকতে হবে।
তবে, ১৩৯০ টাকায় এটা অবশ্যই একটা গুড ডিল বলাই যায়।
আপনার যদি এই প্রোডাক্টটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অর্ডার করতে পারেন টেকস্টুডিও থেকে। এই প্রোডাক্টটি কিনতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
আর এই লেখাটি যদি ভালো লেগে থাকে বা প্রোডাক্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।
এই প্রোডাক্টের রিভিউ ভিডিওটি দেখতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন গ্যাজেট ক্রিটিকের ইউটিউব চ্যানেলটি।