নাথিং ফোন ১ এর খুটিনাটি | Everything about Nothing Phone 1

ভিডিওটি দেখতে ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

আমরা সবাই ইতিমধ্যে জানি এ বছরের সবচেয়ে হাইপড টেক কোম্পানী কোনটি, হাইপড ফোন কোনটি? 

আমাদের টাইটেল এবং থাম্বনেইল থেকে কিন্তু ইতিমধ্যে আপনিও বুঝে গেছেন ইটস নাথিং। মেইবি ইটস নাথিং, অর মেইবি ইটস মোর দ্যান নাথিং। 

নাথিং নিয়ে কথা বলার আগে আমরা জানবো নাথিংয়ের পেছনে কে রয়েছে?

আমরা সবাই ওয়ান প্লাসের সাথে পরিচিত। ওয়ান প্লাসের ওয়ান অফ দ্যা কো ফাউন্ডার কার্ল পেই/পাই। ১৯৮৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিনের বেইজিং শহরে জন্মগ্রহণ করেন কার্ল। 

পরবর্তীতে তার পরিবার আমেরিকায় স্থান্তরিত হয় এবং পরে সুইডেনে বসবাস শুরু করে। কার্ল সুইডেনেই বেড়ে ওঠে। বর্তমানে তিনি সুইডেনেরই নাগারিক। 

২০০৮ সালে কার্ল Stockholm School of Economics এ ভর্তি হয় Bachelor of Science degree জন্য। কিন্তু তিনি চাইনিজ স্মার্টফোন ইন্ড্রাট্রিজে ফুল টাইম কাজ করার ফলে ২০১১ সালে ড্রপআউট হয়। 

যাইহোক, কার্ল পাই, ওয়ান প্লাসের জন্য পরিচিত হলেও তার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১০ সালে নকিয়া কোম্পনিতে কাজ করার মাধ্যমে। সেখানি তিনি তিন মাস কাজ করে ছিলেন। এবং ২০১১ সালে কার্ল 

চাইনিজ ইলেকট্রনিক্স কোম্পানী মেইজুর মার্কেটিং টিমে কাজ শুরু করে। 

২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে কার্ল এবং পেট লাউ প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ান প্লাস। ওয়ান প্লাসের প্রথম ফোন ওয়ান প্লাস ওয়ানের মিলিয়ন ইউনিট সোল্ড হয় ২০১৪ সালে।  

ওয়ান প্লাস প্রতিষ্ঠার সাত বছর পর কার্ল এই প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে এবং ২০২১ সালের  জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখে তার কোম্পানী নাথিংয়ের ঘোষণা দেয়। 

কার্লের বক্তব্য অনুযায়ী নাথিংয়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে টেকনোলজি এবং মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে দেওয়া। 

লন্ডন বেসড নাথিং যাত্রা শুরু করেছে বেশকিছু বিখ্যাত ইনভেস্টরকে সাথে নিয়ে। এদের মধ্যে রয়েছে আইপডের ইনভেনটর টনি ফেডেল, টুইচের কো-ফাউন্ডার কেভিন লিন, রেডিডের সিইও স্টিভ হাফম্যান এবং ইউটিউবার কেসি নেইস্টট। 

একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি নার্থি টিনএইজ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কে তাদের ফাউন্ডিং পার্টনার ঘোষণা করে। টিনএইজ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ হবে নাথিংয়ের প্রোডাক্, ব্রান্ড এবং ডিজাইন এস্থেটিক নিয়ে। 

এবং নাথিংয়ের প্রথম প্রোডাক্ট নাথিং এয়ার ১-এ কিন্তু আমরা তা দেখতে পাই। 

এ মাসের ১২ তারিখে রিলিজ হওয়ার কথা রয়েছে নাথিংয়ের ফোন ওয়ান। অলরেডি কিন্তু মার্কেটে বেশ হাইপড তৈরি করেছে নাথিং ফোন। 

এবং মার্কেট এক্সপার্টদের মতে, ওয়ান প্লাসের মতই শুরুতে তারা মার্কেটে হাইপ তৈরি করে মার্কেট ধরার চেষ্টা করছে। 

তবে নার্থিং অফিসিয়াললি ঘোষণা করেছে যে, শুরুতে তারা ইউএস-এর মার্কেটে প্রোডাক্টটি লঞ্জ করবে না।

ইউকে এবং ইউরোপের মার্কেটে তারা প্রথমে লঞ্চ করবে। এবং তারা ১০০টি লিমিটেড এডিশন করছে ফোন ১-এর। ইতিমধ্যেই যার প্রি-অর্ডারের কার্যক্রম শেষ হয়েছে/চলছে।

বিল্ড কোয়ালিটি, ডিজাইন এবং লুক

এবার কথা বলা যাক, ফোন ১-এর বিল্ড কোয়ালিটি, ডিজাইন এবং লুক নিয়ে।

ফোনটির ব্যাক পার্টের ডিজাইন দেখে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটি একটি ফিউচারিস্টিক ডিজাইন। একটা সাই-ফাই ভাব রয়েছে ফোনটিতে। 

বর্তমানে মর্কেটে এক্সিসটিং ফোন গুলোর দিকে তাকালে এই পার্থক্যটা কিন্তু সহজেই চোখে পরে। 

ট্রান্সপারেন্ট ডিজাইনের কারনে ফোনর ভিতরের থাকা  স্ক্রু গুলো পর্যন্ত দেখা যায়। 

তবে ফোন-১ এর সাথে আপনি হয়তো মিল পেতে পারেন আইফোনের। এর বডি, সাইড বাটন অলমোস্ট প্রায় আইফোনের মতই।

ব্যাকসাইডের আর্কষণীয় পার্ট হিসেবে রয়েছে ৯০০টি এলইডি দিয়ে তৈরি একটি স্ট্রিপ।  যা ফোনের নোটিফেকেশন, চার্জিং প্রোগ্রেস ইন্ডিকেটরের পাশাপাশি ছবি তোলার সময় ফিল লাইট হিসেবে কাজে দিবে। এবং রেড কালারে একটা এলইডি রয়েছে যা ভিডিও রেকডিংয়ের সময় ব্লিংক করবে। এ ব্যাপারটা কিন্তু সত্যিই ইনোভেটিভ এবং ইউনিক। 

নাথিং অফিসিয়াললি জানিয়েছে, ফোন-১এর প্রসেসের হিসেবে তারা Snapdragon 778G+ ব্যবহার করছে। 

অতএব আইডিয়া করা যায় এটি একটি মিড রেঞ্জ বাজেটের ফোন হতে যাচ্ছে। 

এছাড়া স্মুথ ইউজার এক্সপেরিয়েন্সর জন্য তারা ডেভেলপ করেছে এন্ড্রেয়েড ১২ বেসড নাথিং ওএস সিস্টেম। যার বেটা ভার্সন অলরেডি প্লেস্টোরে আছে। এছাড়া থাকলে গ্লিফ ইন্টারফেস।

ডিসপ্লে হিসেবে ব্যবহার করেছে 1080x2400p রেজুলেশনের 6.55 ইঞ্চির 120 হার্জের ওলেড ডিসপ্লে। 

ফ্রন্ট ক্যামরা হিসেবে থাকছে 16mp এর ক্যামেরা এবং ব্যাক সাইডে রয়েছে 50 MP একটি ক্যামেরা এবং 16 MP এর আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। 

 ৬৪ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং ব্যাক সাইডে ২টি ক্যামরো রয়েছে। একটি মেইন ক্যামেরা অপরটি আল্ট্রা ওয়াইড। 

ফোনটি পাওয়া যাবে ৮/১২৮, ৮/২৫৬, ১২/২৫৬ ভেরিয়্যান্টে। 

এছাড়াও ৪৫ওয়াটের ফার্স্ট চাজিং, ৩০ মিনিটে ৫০% পর্যন্ত চার্জ করা যাবে ফোন। ৫ ওয়াটের ওয়ারলেস চাজিং এবং রিভার্স ওয়ারলেস চাজিং। 

ফোনটি পাওয়া যাবে ব্ল্যাক এবং হোয়াইট ভেরিয়্যান্টে। 

এছাড়াও খুটিনাটি আরও ফিচার রয়েছে ফোনটি। 

এসব ফিচার থেকে বোঝা যাচ্ছে এটি হতে যাচ্ছে একটি মিড রেঞ্জ ফোন, অনেকের মতে ফ্ল্যাগশিপ কিলার।  ওভার অল নাথিং একটা ইকো সিস্টেম তৈরি করতে চাচ্ছে। 

সময় বলে দিবে নথিং ফোন কতটুকু মার্কেট দখল করতে পারে এই কম্পিটিটিভ মার্কেটে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *