দেশজুড়ে চলছে তীব্র তাপদাহ। এ অবস্থা থাকবে পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়েই। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ারও সম্ভবনা রয়েছে। এরওপর অনেক জায়গায় রয়েছে লোডশেডিংয়ের সমস্যা। এসব কিছুর ছোটখাটো ডিজিটাল সলুশন হতে পারে একটি রিচার্জএবল ফ্যান।
এই গরমে গ্যাজেক ক্রিটিকের স্টুডিওকে ঠাণ্ডা রাখতে টেকস্টুডিও আমাদের কাছে পাঠিয়েছে শাওমির স্লোভ / সোলোভ এফ ফাইভ এবং F5 Pro মডেলের দুটি ফ্যান । তো চলুন কথা না বাড়িয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
শাওমি F5
কার্ডবক্সের প্যাকেজিংয়ে মধ্যে আসে ফ্যানটি। যদিও বিগত বছরের প্রোডাক্টগুলোতে হোয়াইট প্যাকেজিংও দেখা গেছে।
প্যাকেটটির সামনে ফ্যানের ছবি সহ ইংরেজি ও চাইনিজ ভাষায় লেখা রয়েছে। পিছনে কিছু লেখা রয়েছে। ডান পাশে উল্লেখ রয়েছে ফ্যানের কিছু ফিচার। যা আমরা পরে দেখবো।
বক্সটি খুললেই এর উপরে রয়েছে একটি ফোম ফ্যানটিকে প্রোটেক্ট করার জন্য। এটি সরালেই পলিতে মোড়ানা রয়েছে ফ্যানটি। এবং এর নিচে রয়েছে একটি এজইজুয়্যাল মেন্যুয়াল, একটি টাইপ-সি ক্যাবল ফ্যানটি রিচার্জ করার জন্য। একটি স্ট্রু ড্রাইভার এবং একটি আঠালো স্টিকার। এই স্টিকারটি ফ্যানের নিচে ব্যবহার করার জন্য দেয়া হয়েছে যাতে ফ্যানটি পরে না যায়। যদিও স্টিকার ছাড়াই ফ্যানটি প্লেইন সারফেসে নরমালিল খুব ভালো ভাবেই থাকে।
ফ্যানটি তিনটি কালারে পাওয়া যায়। আমাদের হাতে রয়েছে কালো এবং সাাদ রংয়ের ফ্যান দুটি।
এবার আনবক্স করা যাক প্রো মডেলের ফ্যানটিকে। দুটি ফ্যানের বক্স থেকে শুরু করে ডিজাইন সবকিছুই আইডেন্টিকাল। এই ফ্যানটিও পাওয়া যায় তিনটি কালারে। আমাদের হাতে রয়েছে গ্রিন কালারের ফ্যানটি।
ABS প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়ালে তৈরি ফ্যানটি প্রথমবার দেখলেই এর সলিড বিল্ড কোয়ালিটি ভালোই লাগে। যেহেতু এইগুলো ডেস্কফ্যান; এর বেসটি ওয়াইড এনাফ ডেস্কে বসানোর জন্য। বেসটির নিচে রয়েছে রাবার গ্রিপ; ফ্যানটিকে যেকোন স্থানে ঠিকঠাকমত রাখার জন্য।
F5 এবং F5 Pro দুটো মডেলের ফ্যানেই ব্যবহার করা হয়েছে চার হাজার মিলি অ্যাম্পের লিথিয়াম ব্যাটারি। ফলে ফ্যানগুলো ৩ থেকে ১২ ঘন্টার মত ব্যাকাপ দিবে। কেন এত ডিফারেন্স তা একটি পরে বলছি।
এছাড়া ফ্যানের ব্যাটারি রিচার্জ হতে সময় নিবে ৬ ঘন্টা। .তিনটি স্পিডে কন্ট্রোল করা যাবে ফ্যান দুটিকে। লো-স্পিডে চললে ফ্যানটি সবচেয়ে বেশি সময় ব্যাকআপ দিতে পারবে। এবং হাই স্পিডে চললে ফ্যান সর্বোচ্চ ২-৩ঘন্টা ব্যাক্যাপ দিতে পারবে।
এছাড়া ফ্যানটি ৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত পাখাগুলো রোটেট করতে পারে। ফলে ফ্যানটি ঘুরে ঘুরে আশেপাশে বাতাস ছড়িতে দিতে পারে। এবং পাখাগুলো টিল্টও করা যায়।
ফ্যানের বেসটির উপরে একটি বাটন ও চারটি ছোট এলইডি লাইট রয়েছে ফ্যানটিকে কন্ট্রোল করার জন্য।
প্রথমবার বাটনটি চাপলে ফ্যানটি লো স্পিডে চলতে থাকবে এভাবে ৩টি স্টেপে ফ্যানটিকে কন্ট্রোল করা যাবে। এবং বাটনটি চাপ দিয়ে ধরে রাখলে ফ্যানটি রোটেট করতে শুরু করবে। এবং রোটেট বন্ধ করতে চাইলে বাটনটি পুনরায় চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে।
দীর্ঘদিন ব্যবহারে ফ্যানগুলোর পাখা ময়লা হয়ে গেলে পরিষ্কার করা যাবে খুব সহজেই। এজন্য ফ্যানের সামনের কভারটি খুলতে হবে। নিচের দিকের স্ক্রুটি খুলে কভারটি টান দিলেই খুলে আসবে।
এরপর পাখাটি পরিষ্কার করে আবার একইভাবে লাগিয়ে ফেলা যাবে সহজেই। দুটো মডেলের ফ্যানই একই পদ্ধতিতে ক্লিন করা যাবে।
F5 এবং F5 Pro মডেলের ডিজাইন ফিচার সবকিছু একই। বেসিক ডিফারেন্সটা হলো F5 Pro মডেলের ফ্যানটিতে রয়েছে টেলিস্কোপিক রড। ফলে সহজেই ফ্যানটিকে নরমাল হাইট থেকে কয়েক ইঞ্চি বড় করে ফেলা যায়।
ফ্যানগুলোর নরমাল হাইট প্রায় ১২ ইঞ্চির মত। F5 Pro মডেলের ফ্যানটিকে প্রায় ১৭ ইঞ্চি পর্যন্ত বড় করা যায়।
এবং ফ্যানের হাইট লক করার জন্য রয়েছে একটি নব। এ ধরনের অন্যান্য অনেক ফ্যানে দেখা যায় এই লকিং ম্যাকানিজম না থাকায় ফ্যানের হাইট বাড়ানোর কিছু ক্ষণ পর ফ্যানটি ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে নেমে যেতে থাকে। কিন্তু F5 Pro ‘তে এই লকিং ম্যাকানিজম থাকার কারণে এই সমস্যাটি নেই।
মার্কেটে এই ধরনের রিচার্জএবল ফ্যানগুলো বিভিন্ন কোম্পানি ভেদে ২৫০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকার আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে ব্রান্ড ও ফিচারভেদে। যদি এই ফ্যানগুলো আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে চেক করতে পারেন টেকস্টুডিও।
F5 ফ্যানটি টেকস্টুডিও দিচ্ছে ১৫% ডিসকাউন্টে ২৪৫০ টাকায়। এবং F5 Pro মডেলের ফ্যানটি 10% ডিসকাউন্টে দিচ্ছে 2700 টাকায়।