সম্প্রতি দেশের মার্কেটে লঞ্চ হয়েছে টেকনোর POVA সিরিজের বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন। এরমধ্যে মোটামুটি আলোচনারে কেন্দ্রবিন্দুতে পৌছে গেছে POVA SLIM 5G মডেলের হ্যান্ডসেটটি। কিন্তু কেনো?
এর একটি প্রধান কারণ স্মার্টফোনটির আউটলুট। মাত্র ৫.৯৫ মিলিমিটার থিকনেস এই ফোনটির; সাথে থ্রিডি কার্ভড AMOLED ডিসপ্লে। যেখানে লাখ টাকার আইফোন ১৭ এয়ারের থিকনেস ৫.৫ মিলিমিটার।
USP বিবেচনায় এটা একটা বিবেচ্য বিষয়। কারণ POVA SLIM-এর দাম মাত্র ৩০ হাজার টাকা। যেটা একটা মিড রেঞ্জ বাজেটের ফোন।
এছাড়া ইনবক্স কনটেন্ট হিসেবে POVA SLIM 5G-তে রয়েছে ৫১৬০ মিলি অ্যাম্পেয়ারের ব্যাটারি। একটা ৪৫ ওয়াটের চার্জার, সিম ইজেক্টের, চার্জিং ক্যাবল, একটা সিলিকন কভার, এবং একটা ডিসপ্লে প্রটেক্টর।
নাফিজা টেলিকমের সুবাধে আমাদের সুযোগ হয়েছে এই সেটটিকে একটু খুটিয়ে দেখার। তাদের আউটলেটটি নারায়ণগঞ্জে ফকির টেক্সটাইলের অপজিটে, কায়ুমপুরে অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ সদরের বাসিন্দারা খুব সহজেই ৯ মাস, ৬ মাস এবং ৪ মাসের সহজ EMI-তে তাদের কাছ থেকে টেকনো এবং আইটেলের সেটগুলো নিতে পারবেন।
যাইহোক, মিডরেঞ্জ বাজেটের মধ্যে এই স্মার্টফোনটিকে হাতে নিলে আপনার অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করবে। খুবই লাইট ওয়েট। প্লাস্টিক মেইড বডি। ডিসপ্লেতে রয়েছে Corning Gorilla Glass 7i-এর প্রটেকশন। ব্যাকসাইডে রয়েছে ফাইবার গ্লাস। ম্যাট ফিনিশিং হওয়ায় খুব সহজেই এর বডিতে স্ক্র্যাচ পরার সম্ভাবনা নাই। হাতের ছাপও তুলনামূলক কম পরবে।
তবে ব্যাকসাইডে যে ক্যামেরা বাম্পের কালো অংশটা রয়েছে সেখানে গ্লোসি ফিনিংশ হওয়ায় টুকটাক স্ক্র্যাচ পরতে পারে। মজার বিষয় হচ্ছে ক্যামেরার দুইপাশে রয়েছে সার্কুলার নোটিফিকেশন লাইট। টেকনো এটিকে বলছে মুড লাইট। মূলত এটা রিয়েল টাইম নোটিফিকেশনের সাথে ইন্টারেক্ট করে চেঞ্জ হতে থাকে। এছাড়া এর কিছু বিল্টইন প্রিসেট দেয়া আছে – যেগুলো ইচ্ছামত চেঞ্জ করা বা যাবে, মোবাইল চার্জে দিলে মুড লাইটি প্রোগ্রেস বারের মত বিহেভ করে, এছাড়া এমনিতেও অন্যান্য সময় জ্বালিয়ে রেখে ফ্লেক্স করতে পারেন বন্ধুদের সাথে।
এছাড়া এই স্মার্টফোনে রয়েছে ইন ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। যেটা খুবই ফাস্ট এবং স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স দিবে ইউজারকে।
যাইহোক, লাইটওয়েট এই সেটটি হাতে না নিলে আসলে বুঝবেন না – ৬.৭৮ ইঞ্চির ডিসপ্লের বড় একটা ফোন খুবই ওয়েল ব্যালেন্সড।
এছাড়া এই ফোনটির আছে IP64 রেটিং – ধুলাবালির এবং হালকা পাতলা পানি বা ঘাম থেকে রক্ষা করবে ফোনটিতে। এছাড়া আছে 810H মিলিটারি স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেশন। যেটা এই হ্যান্ডসেটাকে একটা এক্সটা প্রিভিলেজড দেয়।
ওভার অল, এর আউটলুকের দিকে তাকালে দেখা যাবে, সাইডে পাওয়ার বাটন, ভলিউম বাটন, নিচের দিকে, টাইপ-সি চার্জি পোর্ট, পাশেই সিমকার্ড ট্রে আছে, রাখা যাবে দুইটি সিম কার্ড। তবে কোন এক্সটানাল মেমোরি কার কার্ড ইন করা যাবে না।
এছাড়া রয়েছে ডলবি এটমস সার্টিফিাইড একটি সিঙ্গেল স্পিকার। বাট অনেরকের হয়তো কম্পেলেইন থাকতে পারে এই বাজেটে সিঙ্গেল স্পিকার নিয়ে। ফোনটাকে খুব সম্ভবত হালকা পাতলা করার জন্য এটা করতে হয়েছে।
ডিসপ্লের কথা যদি বলি, 6.78 ইঞ্চির এমোলেড ডিসপ্লে রয়েছে ফোনটিতে। প্রোটেকশন হিসেবে আছে করনিং গোরিলা গ্লাস সেভেন আই। ১২২৪ বাই ২৭২০ রেজুলেশন। পিক্সেল রেশিও ২০:৯, এবং পিক্সে ডেনসিটি ৪৪০ পিক্সেল পার ইঞ্চি। ৪৫০০ নিটসের পিক ব্রাইটনেস।
এছাড়া টেকনো ক্লেইম করছে ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট। যদিও এই রেঞ্জে এটা একটু বেশি মনে হচ্ছে। নেটিভ কিছু অ্যাপস ছাড়া ১৪৪ হার্জ তেমন পাওয়া যায় না। এভারেজ ১২০ এরমত আসলে পাওয়া যায়।
এছাড়া, আউটডোরে ব্রাইটনেস রিলেটেড কোন ইস্যু আমরা ফেস করিনি। বেজেলেসর কথা যদি বলে, এই প্রাইজ রেঞ্জেও ঠিকঠাক মনে হয়েছে।
কনটেন্ট ওয়াচিং, কালার আউটপুট ভালোই মনে হয়েছে আমাদের কাছে এই বাজেটে।
এছাড়া, সামনের দিকে ক্যামেরা পাশে যে পাঞ্চ হোলের মত রয়েছে এটাকে টেকনো বলছে ডাইনামিক পোর্ট। এটাকে আপনার প্রয়োজনমত কাস্টমাইজড করে নিতে পারেন। অনেকটা আইফোনের ডাইনামিক আইল্যান্ডের মত। এছাড়া আপনি চাইলে এটাকে অফও করে রাখতে পারবেন সেটিংস থেকে।
এছাড়া, ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর রয়েছে সামনের দিকে। এবং একুরেসিং এবং টাইমিং ঠিকঠাক মনে হয়েছে আমাদের কাছে।
সো ওভার অল বলতে গেলে, ডিসপ্লে নিয়ে তেমন কিছু আর বলার নেই। এই রেঞ্জে ঠিকই মনে হয়েছে। বাট আপনি যখন মাল্টিমিডয়া কনজাম করতে যাবেন, তখন যেটা আপনার কাছে ইস্যু মনে হতে পারে, সেটা হচ্ছে এর স্পিকার। যেহেতু সিঙ্গেল স্পিকার ইউজ করা হয়েছে। যদিও এখন আমরা মোটামুটি সবাই হেডফোন/নেকব্যান্ডই বেশিই ইউজ করি। যাইহোক, এই বাজেটে আসলে অনেকেই হয়তো একটা স্টোরিও স্পিকার আশা করতে পারেন।
যাইহোক, ফোনের উপরের দিকে রয়েছে একটি একটিভ নয়েস ক্যান্সেলেশন মাইক।
এছাড়া ব্যাকসাইডে রয়েছে ফাইবার গ্লাস। এখানে কোন গ্লাস প্রোটেকশনের তথ্য আমরা পাইনি।
এই ফোনকে পাওয়ার আপ করার জন্য রয়েছে ৫১৬০ মিলিঅ্যাম্পেয়ারের ব্যাটারি। সাথে ৪৫ ওয়াটের চার্জার, ৫৭ মিনিট লাগবে ১০০% চার্জ হতে। এছাড়া ১০ ওয়াটের রিভার্স ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা রয়েছে।
একটা স্লিম ফোন হিসেবে ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পের ব্যাটারি থাকা এক কথায় দারুন বলাই লাগে। একজন ব্যালেন্সড ইউজার সারাদিন মোটামুটি আরামসে ব্যবহার করতে পারবেন।
ওহ… ইমপটেন্ট যেটা, এই মোবাইলে প্রোসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৬৪০০ চিপসেট। এটি একটি ৬ নেনোমিটার আর্কিটেকচারের চিপসেট। একটি অক্টাকোর সিপিউ, ২.২৫ গিগাহার্জের ;এছাড়া Mali G57 MC2 চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে এটির GPU ইউনিট হিসেবে।
ওভারঅল বললে, একটি মিড লেভেল চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। মোটামুটি একটা ডিসেন্ট পারফমেন্স পাওয়া যাবে এটি থেকে। যেহেতু স্লিম ফোন, এরচেয়ে বেশি আসলে আমরা আশাও করতে পারছি না এর ফরমফ্যাক্টরের জন্য।
সাথে আছে ৮জিবি LPDDR4X র্যাম। এছাড়া এক্সটেন্ডটড মেমোরি ফিচার রয়েছে। সেখান থেকে চাইলে আরও ৮জিবি ব্যবহার করা যাবে র্যাম হিসেবে।
আর স্টোরেজ হিসেবে রয়েছে ২৫৬ জিবি স্পেস।
এবার যদি হার্ডওয়্যার এবং পারফরমেন্সের কথা বলি, যেহেতু এটি একটা স্লিম ফোন, সো আপনার যদি গেমিংয়ের চিন্তা ভাবনা থাকে তাহলে অবশ্যই একটি বিগ নো। তবে টুকটাক তো খেলাই যাবে।
আমরা খেলেছি – পাবজি, কল অফ ডিউটি এবং আরও টুকটাক কিছু গেম। গেম ডাটার ব্যাপারে বেশি ইনডেপথ যাচ্ছি না। মোটামুটি পারফরমেন্স পাওয়া গেছে। শখের বশে যদি মাঝে মাঝে গেমিং করেন তাহলে ঠিক আছে। তবে হার্ডকোর গেমিংয়ের জন্য এটা না।
এছাড়া, হেভি ইউজের ক্ষেত্রে হিটিং ইস্যু তেমনটা পাওয়া যায় নি। ওভারঅল গুড। এখানেও টেকনিক্যাল ইস্যুতে আমরা ডিপডাইভ করছি না। টেকনো এখানে অফিসিয়াল বলছে তারা হিট ডিসাপশনের জন্য এখানে ভেপর চেম্বার ইউজ করেছে।
এছাড়া নেটওয়ার্ক ও অন্যন্য খুটিনাটি হার্ডওয়্যারের দিকে যদি তাকাইয় – এই ফোনটা ৫জি সাপোর্টেড, ব্লুটুথ ৫.৪, এনএফসি আছে,
এছাড়া এই ফোনে ফ্রিলিংক নামে একটা ফিচার উল্লেখ করা হয়েছে। যেটা নেটওয়ার্ক না থাকলেও ব্লুটুথের মাধ্যমে দুইটা ডিভাইসে কানেক্টেড হয়ে ভয়েস ম্যাসেজ, কল, এবং টেক্সট করা যাবে।
সফটওয়্যার বা ওএসের কথা বললে, মোটামুটি ডিসেন্ট বলা চলে।
এছাড়া রয়েছে টেকনোর AI সাপোর্টট। এআই সার্চ, AI Ereser 2.0, AI, Image Extender, AI Sharpnesee Plus, এ সমস্ত ফিচার থাকছে।
টেকনোর এআই এজেন্টের নাম Ella, এর মাধ্যমে – Web Summary, Start Navigation, Photo Editing, Schedule Create, এবং Photo Based Problem Solved করতে পারবেন।
এছাড়া আছে, ওয়ার্নিং ছাড়া কল রেকর্ড করার সুবিধা আছে।
ওএসের কথা যেহেতু বললাম, ওয়ারেন্টির ব্যাপারটাও বলে ফেলা যাক। ১৩ মাসের অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি দিচ্ছে টেকনো।
ক্যামেরা হিসেবে আছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রােইমারি ক্যামেরা এবং ২ মেগাপিক্সেলের অক্সিলারি ক্যামেরা।
আমাদের তোলা ছবি ও ভিডিও দেখতে পারবেন এখানে ক্লিক করে আমাদের রিভিউ করা ভিডিওতে।
ক্যামেরা কোয়ালিটি আমাদের কাছে এভারেজ মনে হয়েছে। কাজ চলে আর কি।
ভিডিওর ক্ষেত্রে 1080p 30FPS-এ এর স্টাবিলাইজেশন মোটামুটি কাজ করলেও 2K-তে এই অপশন থাকছে না। এছাড়া এখানে কোন ওয়াইড বা আল্টাওয়াইড ক্যামেরা নেই। যেটা আমাদের কাছে একটা ব্যাকড্র মনে হয়েছে।
ফ্রন্টে ১৩ মেগাপিক্সেলের একটি সেলফি ক্যামেরা আছে । ডে লাইটে এটিও ডিসেন্ট পারফম করে।
বোথ ক্যামেরাই অনেক বেশি এআই ইনহেনস ফটো দেয়। একটু বেশি ওয়াশআউট ফিল দেয়। এটা কারও কারও কাছে ভালো লাগলেও লাগতে পারে। আবার নাও লাগতে পারে।
এখন যদি ওভারঅল বলি, এই ছিলো টেকনো পোভা স্লিম ৫জির মোটামুটি বিস্তারিত। আপনি যদি একটা স্লিম ফোন চান, বা একটা সেকেন্ডারি ডিভাইস চান তাহলে এটি একটি বেটার অপশন হতে পারে।
স্লিম হওয়ার কারণে কিছু কিছু দিকে অবশ্যই কম্প্রোমাইজড করা হয়েছে। তবে পারফরমেন্স মোটামুটি ডিসেন্ট পাওয়া যাবে।
আাপনি যদি এমন কেউ হয়ে থাকেন যে, একটা ভেল্যু ফর মানি প্রোডাক্ট খুজছেন তাহলে অন্য কোন মডেল দেখতে পারেন। অথবা টেকনোর কেমন সিরিজও দেখতে পারেন।