B-Llink Smart TV Box

আপনি কি জানেন এক সময় টিভির লাইসেন্স ছিল? আপনি যদি নাইনটিস কিড হন তাহলে সম্ভবনা আছে আপনার মনে থাকার। কিন্তু ইন্টারনেট আবিভার্বের পর থেকে টিভি অনেকটাই উধাও হয়ে গেছে। আপনার কি মনে আছে লাস্ট কবে টিভি দেখেছেন? টিভি আমরা লাস্ট যেদিনই দেখি না কেন মার্কেটে এখন টিভি আছে নানান রূপে। আমরা আগে যে CRT TV গুলো দেখতাম সেগুলো এখন জাদুঘরে যাওয়ার পথে। এর পরিবর্তে এখন মার্কেট দখল করে আছে নানা রকম ডিজিটাল ভার্সনের টিভি। যেমন প্লাজমা টিভি, এলসিডি টিভি, এলইডি টিভি, ওলেড টিভি, স্মার্ট টিভিসহ আরও অনেক নামে এবং অনেক ভ্যরিয়েন্টে। যাই হোক, আজকে আমদের বিষয় হচ্ছে স্মার্ট টিভি। আপনার ঘরে যদি একটি আনস্মাট টিভি থাকে অথবা কম্পিউটারে ব্যবহার করেন এমন একটি  মনিটর থাকে তাহলে এবং আপনি চিন্তা করছেন কি করে আপনার আনস্মার্ট টিভিকে স্মার্ট করবেন অথবা কম্পিটার চালানোর পাশাপাশি আপনার মনিটরটিকে আপনি একটিস্মার্ট টিভি হিসেবে ব্যবহার করবেন তাহলে এই ভিডিওটি আপনার জন্য। 

বাজারে এত এত টিভিবক্সের ভিতরে আমাদের এই চাইনিজ টিভি বক্সটি কেমন পারফর্ম করে তা দেখতে চলুন শুরু করা যাক এর আনবক্সিং। যেহেতু এটি একটি বাজেট প্রোডাক্ট তাই খুবই সাধারণ কার্ডবক্স টাইপ প্যাকেজিং। এ নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। সাদা এবং একটি সায়ান কালারের কম্বিনেশনে প্যাকেজিং করা হয়েছে। সামনের দিকে বড় করে B-LINK লেখা এবং টিভি বক্সটির একটি ছবি রয়েছে। উপরে কোনায় কমলা রঙে লেখা রয়েছে 4K! দুই হাজারেরও কম টাকায় 4k কিভাবে সম্ভব? বক্সের নিচের দিকে রয়েছে ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, ক্রোম এবং গুগল প্লে স্টোরের লোগো। বক্সের এক পাশে উল্লেখ রয়েছে এর কিছু ফিচার। যেমন, ওয়াই ফাই, HDMI, MEMORY CARD SLOT ইত্যাদি বিষয়। অপর পাশে রয়েছে বক্সের ভিতর কি কি জিনিস রয়েছে তার ছবি। বক্সের বটমে রয়েছে আরও বেশ কিছু ফিচার যেমন সিপিউ, জিপিউ র‌্যাম এবং রমের তথ্য। এবং পিছরে রয়েছে আরও কিছু ইমেজ এবং আইকন। এবার দেখা যাক বক্সের ভিতরে কি রয়েছে। বক্সটি খুললেই প্রথমে এর ভিতরে রয়েছে টিভি বক্সটি। বক্সটি আপাতত আমরা সাইডে রেখি দেখি আর কি কি রয়েছে এর ভিতরে। বক্সের নিচের লেয়ারে রয়েছে একটি ফাইভ ভোল্টের পাওয়ার এডাপ্টার। একটি HDMI ক্যাবল এবং টিভি বক্সটিকে কন্ট্রোল করার জন্য  একটি রিমোট। এছাড়া এজইজুয়াল একটি ম্যানুয়াল। যেটি কেউ পড়ে না। রিমোটটি চালাতে প্রয়োজেন হবে দুটি ট্রিপল-এ ব্যাটারি। 

টিভিবক্সটি পাওয়ার আপ করার আগে আমরা এর ফিচার সম্পর্কে একটু জেনে নেই। এই টিভিবক্সটিতে ব্যবহার করা হয়েছে AMLOGIC S950W মডেলের একটি Quad-core ARM Cortex-A53-based SoC. যেটি একটি 4 CORE, 4 THRED এর প্রসেসর। এর বেস ক্লক হচ্ছে  টু গিগাহার্জ।  যার সাথে রয়েছে MALI-400 GPU. এছাড়া এর সাথে রয়েছে ফোর জিবি র‌্যাম। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে এন্ড্রয়েড ১১। এই টিভি বক্সটি h.265 এবং HEVC কোডেক সাপোর্ট করে। এই কোডেক মূলত লো ব্যান্ডউইথে স্ট্রিমিং করতে টিভি বক্সটিকে সাহায্য করবে। অর্থাৎ আপনি যখন টিভি বক্সটিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন তখন লো-ইন্টারনেট স্পিডেও টিভিবক্সটি তার সাধ্যমত স্ট্রিমিং করার চেষ্টা করবে। এবং এই টিভিবক্সটি ওয়াইফাই ২.৪ সাপোর্টেড। টিভিবক্সটির বাদবাকি ফিচারগুলো আমরা এর আউটলুক ইনসপেকশন করলে দেখতে পারবো। ব্ল্যাক কালারের বক্সটির উপরে সাদা রঙয়ে লেখা রয়েছে B-Link। এর সামনের দিকে রয়েছে একটি ছোট এইডি ডিসপ্লে। এর ডানপাশে রয়েছে দুইটি USB পোর্ট এবং একটি মাইক্রো এসডি মেমোরি কার্ড হোল্ডার। যেটি ৩২ জিবি পর্যন্ত মেমোরি সাপোর্ট করে। এর পেছন দিকে রয়েছে একটি AV পোর্ট, একট SPDIF পোর্ট। এই পোর্ট হচ্ছে একটি ডিজিটাল অডিও ইন্টারফেস। একটি ইথারনেট পোর্ট যেটি ১০০ এমবিপিএস পর্যন্ত ডাটা ট্রান্সফার করতে পারে। একটি HDMI পোর্ট। এবংডিভাইটিকে পাওয়ার আপ করার জন্য একটি পোর্ট। 

এইতো গেল আমাদের ফিচার। এখন দেখা যাক এর বেসিক অপারেশনগুলো। টিভিবক্সটিকে টিভিতে অথবা মনিটরে চালানোর জন্য HDMI ক্যবলটি আমরা টিভি বক্সের সাথে কানেক্ট করে নিব। এরপর আমরা এর পাওয়ার এডাপ্টারটি টিভিবক্সের সাথে যুক্ত করে পাওয়ার অন করবো। ডিভাইসটি পাওয়ার আপ হলে এর ব্লু LEDটি জ্বলে উঠবে।  প্রথমবার পাওয়ার অন করলে টিভিবক্সটি একটু সময় নিবে বুট হতে। বুট হয়ে গেলে আমরা রিমোটের মাধ্যমে টিভিবক্সটিকে কিন্তু কন্ট্রোল করতে পারবো। পাওয়ার অন অবস্থায় রিমোট থেকে পাওয়ার বাটনটি চাপলে টিভিবক্সটি স্লিপ মুডে চলে যাবে। এবং স্লিপ মুডে থাকা অবস্থায় রিমোট থেকে পাওয়ার বাটনটি চাপলে টিভিবক্সটি আবার অন হবে। এছাড়া রিমোট কন্ট্রোলের এ্যারো  কি ব্যবহার করে আমরা আমাদের পছন্দমত প্রোগ্রাম যেমন ইউটিউব বা নেটফ্লিক্স অ্যাপ চালানো, ব্রাউজ করার মত কাজ গুলো করতে পারবো। অ্যারো বাটনদিয়ে পছন্দমত প্রোগ্রাম সিলেক্ট করে রিমোটের অকে বাটনে চাপলে সেই প্রোগ্রোমটি ওপেন হবে। এছাড়া MY APPS-এ ক্লিক করে আমাদের রিসেন্ট ইউজ করা প্রোগ্রাম গুলো দেখতে পারবো এবং আবার ব্যবহার করতে পারবো।  আবার রিমোটের হোম বাটনে ক্লিক করে আমরা হোম স্ক্রিনে ফিরে আসতে পারবো। এছাড়া আপনি যদি রিমোট ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দবোধ না করেন তাহলে কিন্তু কম্পিউটারের কিবোর্ড এবং মাউস টিভিবক্সটির ইউএসবি পোর্টে ঢুকিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন নেভিগেশন এবং টাইপিংয়র জন্য। আমরা কিন্তু রেগুলার ওয়্যারড কিবোর্ড-মাউস এবং ওয়্যারলেস কি-বোর্ডমাউস উভয়ই ব্যবহার করেছি। READ EXTERNAL STORAGE DATAএছাড়া এর সাথে থাকা ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে আপনি চাইলে পেনড্রাইভও ইউজ করতে পারবেন। এবং পেনড্রাইভের পাশপাশি এর সাথে মাইক্রোএসডি কার্ড হোল্ডারের মেমোরি কার্ড ঢুকিয়েও কিন্তু ভিডিও দেখা যাবে। WIFI FUNCTION শুরুতে যেমনটি বলেছিলাম, এই টিভিবক্সটি কিন্তু WIFI 2.4 সাপোর্টেড। ওয়াইফাই কানেক্ট করা জন্য আমরা প্রথেমে সেটিংয়ে যাবো, এবং আমাদের ওয়াইফাই নেটওয়ার্কটি সিলেক্ট করে পাসাওয়ার্ড দিলেই টিভি বক্সটি কানেক্ট হয়ে যাবে। ETHERNET FUNCTION ওয়াইয়াইতে যেহেতু একটু লেটেন্সি থাকে। তাই আমরা চাইলে সরাসরি কিন্তু টিভিবক্সের পেছনে থাকা ইথারনেট পোর্টে আমাদের ইন্টারনেট কানেকশনটি ব্যবহার পারি। এছাড়া আপনি চাইলে  এর স্ক্রিণ কাস্ট অথবা স্ক্রিন মিরর ফিচার ব্যবহার করে কিন্তু আপনার ফোনকেও কানেক্ট করতে পারবেন এর সাথে। 

এইতো গেলো একঝাক ফিচারের কথা। এখন কথা হচ্ছে যাকে এতক্ষণ ধরে আমরা টিভিবক্স বলছি এই টিভিবক্স কি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো চলবে নাকি শুধুই ইন্টারনেট চলবে? আনন্দের সংবাদ হচ্ছে এর সাথে রয়েছে টফি অ্যাপ। যার মাধ্যমে কিন্তু আপনি বেশি কিছু দেশি বিদেশী চ্যানেল ফ্রিতেই দেখতে পারবেন। 

অনেকসময় দেখা যায় টিভিবক্সগুলো দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের ফলে টিভিবক্সগুলো গরম হয়ে পারফরম্যান্স ড্রপ করে। এই টিভিবক্সটি দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারেও এই ডিভাইসটি তেমন গরম হয়নি। এবং তেমন পারফরম্যঅন্স ড্রপও লক্ষ করা যায় নি। 

বাজারে নামি দামি ব্র্যান্ডের ভিরে এইরকম ননব্র্যান্ডের একটি টিভিবক্সটি কোনভাবেই খুব একটা পিছিয়ে নেই প্রাইজ টু পারফরমেন্সের হিসেবে। যদি প্রোডাক্টটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে চেক করতে পারেন ডেসক্রিপশনে দেওয়া লিংক থেকে রিজনেবলশপের ফেসবুক পেইজে। রিজনেবলশপ গ্যাজেট ক্রিটিকের ভিউয়ারদের জন্য এই রাউটারটি দিচ্ছে মাত্র ১৯০০ টাকায়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *