প্রথমেই শুরু করা যাক আউটলুট ইন্সপেকশন এবং ইনবক্স কনটেন্ট দিয়ে।
বক্সের উপরে রয়েছে হোয়াইট এন্ড ব্ল্যাকের হাই কন্ট্রাস্ট ডিজাইন। উপরের দিকে কোনায় রয়েছে JBL এর লগো।
ব্যাক সাইডে একটু অংশ রয়েছে ট্রান্সপারেন্ট এবং গ্রে কালারের ডিজাইন। সাথে উল্লেখ রয়েছে কিছু ফিচার।
যাইহোক, এবার খুলে ফেলা যাক, বক্সটিকে।
বক্সটি খুললেই ট্রান্সপারেন্ট প্লাস্টিকের বক্সে রয়েছে ইয়ারফোনটি। সাথে এর চার্জিং ক্যাবল, ৩টি ডিফারেন্ড সাইজের ইয়ারটিপস আপনার কানের সাইজ অনুয়ায়ী ব্যবহারের জন্য এবং বিশাল একটি সেফটি ইন্সট্রাকশন এবং ওয়ারেন্টি কার্ড। এই কার্ডের উপরেই রয়েছে বার কোড যেটি স্ক্যান করলে আপনাকে জেবিএলের সাইটে নিয়ে যাবে। কিন্ত জেবিএলের প্রোডাক্ট গুলো যেহেতু অফিশিয়াললি আসে না তাই তাদের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের নাম দেখতে পাবেন না। যাই হোক, এছাড়া রয়েছে বিশাল মেনুয়্যাল। কিন্তু এর ডিজাইনগুলো একটু আলাদ। ব্রান্ড বলে কথা।
এবার আসা যাক এর টেকনিক্যাল স্পেসিফিকশনের দিকে,
এই ব্লুটুথ ইয়ারফোনর রয়েছে 8.6mm এর ডাইনামিক ড্রাইভার। এবং এতে ব্যবহার করা হয়েছে ব্লুটুথ ৪.২ যেটি স্ট্যাবল কানেশন নিশ্চত করে। এবং এর ব্লুটুথ ফ্রিকোয়েন্সি হচ্ছে 2.402 Ghz-2.480Ghz
HFPv1.6, HSP V1.2, AVRCP V1.5, A2dp V1.2 Bluetooth profile version ব্যবহার করা হয়েছে এই ইয়াফোনটিতে।
এছাড়া এই ব্লুটুথ ইয়ারফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে GFSK, DQPSK, 8DPSK Bluetooth transmitted modulation. এর ফ্রিকোয়েন্সি রেট 20Hz থেকে 20kH হার্জ।
এতসব আজাইরা ফিচার বলতে বলতে গুরুত্বপূর্ণ ফিচারের কথা বলতেই ভুলে যাচ্ছি। ইয়ারফোনটির ওজন মাত্র ১৯.০২ গ্রাম। এতে ব্যবহার করা হয়েছে 3.7V এর 160mAH Lithium-ion battery এবং এর প্লেব্যাক টাইম ক্লেইম করা হচ্ছে ৮ ঘন্টা। আপনি অনায়অসেই ৫-৬ঘন্টার মত ব্যবহার করতে পারবেন।
লিটল কিউট এই ব্যাটারিটি রিচার্জ হতে সময় নিবে ২ ঘন্টা।
ইয়ারফোনটির ক্যাবলের কোয়ালিটি আমদের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। এধরণের ক্যাবল গুলো লংলাস্টিং হয়ে থাকে।
এবার একটু কথা বলা যাক, ইয়ারফোনটির বাটন এবং টুকটাক সেটিংস নিয়ে। পাওয়ার বাটনটি অন/অফ করা ছাড়াও পরপর দুইবার প্রেস করলে ভয়েস এসিসট্যান্স চালু হবে। সিঙ্গেল প্রেসে মিউজিক পস/প্লে এবং কল রিসিভিও করা যাবে।
এছাড়া ভলিউম+ বাটনটি দিয়ে সিঙ্গেল প্রেস ভলিউম বাড়ানো এবং লং প্রেসে অডিও চেঞ্জ করা যাবে। ভডিউম- বাটনটি দিয়েও ভলিউম কমানোর পাশাপাশি লং প্রেসে অডিও চেঞ্জ করা যাবে।
এই ইয়ারফোনের একটি ইন্টারেস্টিং সেটিংস হচ্ছে দুইটি ডিভাইসে সুইচ করা যাবে ইয়ারফোনটিকে। জেবিএল এই ফিচারটিকে বলছে মাল্টিপয়েন্ট কানেকশন। এজন্য ভলিউম+ বাটন এবং পাওয়ার বাটনটিকে ২ সেকেন্ড চেপে ধরে রাখলে দুইটি ডিভাইসের মধ্যে সুইচ করবে ইয়ারফোনটি।
এবার আসা যাক আসল কথায়, আমাদের কাছে এর সাউন্ড কোয়ালিটি খুবই ব্যালেন্সড মনে হয়েছে। কোথাও কোনও এক্সট্রা বেস বোঝা যায় না। আপনি যদি বেস লাভার হয়ে থাকেন তাহলে এই ইয়ারফোনটি আপনার জন্য নয়।
কারণ বেসের আধিক্য কম এমন মিজিউক গুলো আপনার কাছে খুব একটা ভালো লাগবে না। বাট এগেইন, আপনি যদি ব্যালেন্ড এবং ফাইন টিউন একটি অডিও চান, ভোকাল আপনার প্রাধ্যান্য থাকে তাহলে এটি আপনার জন্য একটি গুড চয়েস হতে পারে।
যদিও এর সাউন্ড কোয়ালিটি নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই তবে এর ওভারঅর ব্যাটারি ক্যাপাসিটি আমাদের কাছে কম মনে হয়েছে। যদিও এর ব্যাটারি ক্যাপাসিটি আরেকটু বেশি হতো ওভারঅল ব্যাকাপটাইম বেশি হলে এর মার্কেটে খুব ভালো একটা পশিজনে থাকতে পারতো এই ব্লুটুথ এই ইয়ারফোনটি।
১৮০০ টাকার আশেপাশেই বিক্রি হচ্ছে এই ইয়ারফোনটি।